শায়খ হাফিজ মুহাম্মাদ আইনুল হুদাআলেম · লেখক · অনুবাদক · দাঈ

জীবনী

শায়খ হাফিজ মুহাম্মাদ আইনুল হুদা — আলেম · লেখক · অনুবাদক · দাঈ

أبو عبد الله محمد عين الهدى

সিলেটে জন্ম, নিউইয়র্কে কর্মস্থল। আল্লামা আব্দুল লতীফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ.)-এর খলিফা, দারুস সুন্নাহ লতিফিয়া নিউইয়র্কের প্রতিষ্ঠাতা ও আহলুস সুন্নাহ মিডিয়ার পরিচালক। আরবি, বাংলা ও ইংরেজিতে চল্লিশের বেশি গ্রন্থের রচয়িতা ও অনুবাদক।

নাম ও বংশ

পুরো নাম মুহাম্মদ আইনুল হুদা, কুনিয়াত আবু আব্দিল্লাহ। ইংরেজিতে তিনি Abu Abdillah Muhammad Ainul Huda নামে পরিচিত। তাঁর পিতা শায়খ আবদুর রকিব ছিরামপুরী ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ আলেম ও কারি, যিনি ইয়াকুব বদরপুরী (রহ.)-এর খলিফাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মাতা সায়্যিদা রুকাইয়া, আল্লামা সায়্যিদ আব্বাস আলীর কন্যা। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। পারিবারিক বর্ণনা অনুযায়ী তাঁদের বংশধারা হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী শাহ কামাল ইয়ামানী (রহ.) পর্যন্ত পৌঁছেছে।

জন্ম ও শৈশব

বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে সিলেট সদরের ছিরামপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। দ্বীনি পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই সন্তান শৈশবেই পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন

হিফজের পর রাখালগঞ্জ মাদরাসা এবং ফেঞ্চুগঞ্জ মুহাম্মদিয়া কামিল মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। এরপর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন। উচ্চশিক্ষার জন্য কাতারে যান এবং সেখানে আব্দুস সালাম আল-বাসয়ূনী, শাহাত ফরীদ, বুদাইর আহমদ আল-বাদলী ও সামীহ ত্বহা কিনদীলসহ বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে অধ্যয়ন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও পড়াশোনা করেন।

তাসাউফ ও ইজাযত

তিনি শামসুল উলামা আল্লামা আব্দুল লতীফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ.)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর কাছ থেকে কাদেরিয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, মুজাদ্দেদিয়া ও মোহাম্মদিয়া তরিকার খিলাফত লাভ করেন। এ ছাড়া সায়্যিদ মুহাম্মদ ইবন আলাওয়ী আল-মালিকী, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, হাবিব সালিম আশ-শাতিরী ও সায়্যিদ ইউসুফ হাশিম আর-রিফাঈসহ বহু আলেমের কাছ থেকে সনদ ও ইজাযত লাভ করেছেন।

দাওয়াত ও কর্মক্ষেত্র

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্ককে কেন্দ্র করে দাওয়াত, শিক্ষা ও প্রকাশনার কাজ শুরু করেন। তিনি দারুস সুন্নাহ লতিফিয়া নিউইয়র্কের প্রতিষ্ঠাতা, আহলুস সুন্নাহ মিডিয়ার পরিচালক এবং আল মাহারা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আল মাহারা টিভি ও আহলুল বায়ত মসজিদসহ বিভিন্ন দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। আরবি, বাংলা ও ইংরেজি তিন ভাষায় তাঁর হাজারো ভিডিও বয়ান রয়েছে। তিনি আনজুমানে আল ইসলাহ ইউএসএ-এর ২০২৫–২০২৮ সেশনের সহসভাপতি।

লেখালেখি

ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর লেখালেখির শুরু। মাসিক শাহজালাল ও মাসিক পরওয়ানায় তাঁর প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে; কাতারের দৈনিক আল আরব আল ইসলামিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক কলাম এবং লন্ডনের আরবি সাপ্তাহিক আল মুসলিমুনেও তিনি লিখেছেন। আরবি, বাংলা ও ইংরেজিতে তাঁর মৌলিক ও অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশের বেশি। এর মধ্যে আল খুতবাতুল হানাফিয়্যাহ এবং আল ইহতিফালু বিল মাওলিদি বৈরুতের দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

চিন্তাধারা

তাঁর লেখায় তাসাউফকে মুমিনের হারানো সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার মূল কথা হলো আল্লাহর প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং সৃষ্টির সাথে সুন্দর আচরণ। নববী আখলাক, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার হক আদায় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সৌন্দর্যকে তিনি তাসাউফের বাস্তব রূপ মনে করেন। আধ্যাত্মিকতার নামে বাড়াবাড়ি ও অকারণে অন্যকে কাফির বলার প্রবণতার তিনি বিরোধী।